দিন ৮ - তওবা ও ইস্তিগফার
রমজান তওবার মাস। আল্লাহর কাছে ফিরে আসার মাস। যত বড় গুনাহই হোক না কেন, আল্লাহ ক্ষমা করতে পারেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, "হে আমার বান্দারা, যারা নিজেদের ওপর জুলুম করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সকল গুনাহ মাফ করে দেন। তিনি তো ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।"
কত বড় গুনাহ করেছি! কত দিন নামাজ ছেড়ে দিয়েছি! কত মিথ্যা বলেছি! কত গীবত করেছি! কত হারাম দেখেছি! অন্তর কাঁপে এসব ভাবলে। কিন্তু আল্লাহর রহমত এসবের চেয়ে অনেক বড়।
রাসূল ﷺ বলেছেন, "আল্লাহ তায়ালা রাত্রিতে তাঁর হাত প্রসারিত করেন যাতে দিনের গুনাহগার তওবা করতে পারে। আর দিনে তাঁর হাত প্রসারিত করেন যাতে রাতের গুনাহগার তওবা করতে পারে। সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উদিত না হওয়া পর্যন্ত এভাবে চলতে থাকবে।"
ইবনে রজব রহিমাহুল্লাহ বলেছেন,
❝তওবার তিনটি শর্ত: গুনাহ ছেড়ে দেওয়া, অতীতের গুনাহের জন্য অনুতপ্ত হওয়া, এবং আর কখনো সে গুনাহে ফিরে না যাওয়ার দৃঢ় সংকল্প করা। আর যদি গুনাহটা কোনো বান্দার হক সংক্রান্ত হয়, তাহলে চতুর্থ শর্ত - তার কাছ থেকে মাফ চেয়ে নেওয়া বা তার হক ফিরিয়ে দেওয়া।❞
প্রতিদিন ১০০ বার ইস্তিগফার করবো ইনশাআল্লাহ। أَسْتَغْفِرُ اللهَ "আস্তাগফিরুল্লাহ" বলবো। আরো ভালো হয় যদি পূর্ণ দোয়া পড়ি: أَسْتَغْفِرُ اللهَ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ "আস্তাগফিরুল্লাহাল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুমা ওয়া আতুবু ইলাইহি।"
রাসূল ﷺ বলেছেন, ❝আমি প্রতিদিন ৭০ বারের বেশি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই এবং তাঁর কাছে তওবা করি।❞ তিনি নিষ্পাপ, তাঁর কোনো গুনাহ নেই, তারপরও এত ইস্তিগফার করেন। আর আমরা গুনাহে ডুবে আছি, কিন্তু ইস্তিগফার করি না!
ইবনে তাইমিয়্যাহ রহিমাহুল্লাহ বলেছেন, ❝তওবা শুধু গুনাহ মাফ করে না, বরং গুনাহকে নেকিতে পরিবর্তন করে দেয়। আল্লাহ তায়ালা বলেন, 'তারা ব্যতীত যারা তওবা করেছে, ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, তাদের গুনাহগুলোকে আল্লাহ নেকিতে পরিবর্তন করে দেবেন।'❞
আশরাফ আলী থানভী রহিমাহুল্লাহ বলেছেন, ❝তওবা করার পর আবার গুনাহ করলে আবার তওবা করবো। একশবার গুনাহ করলে একশবার তওবা করবো। শয়তান যেন এই ভয় দেখিয়ে তওবা থেকে বিরত রাখতে না পারে যে, 'আবার তো করবে, তওবা করে কী হবে?' কখনো হতাশ হবো না।❞
সাজদায় গিয়ে কাঁদবো ইনশাআল্লাহ। অতীতের সব গুনাহ মনে করে আল্লাহর কাছে মাফ চাইবো। রাতের শেষ তৃতীয়াংশে উঠে তওবা করবো। ফজরের আগে, ইফতারের আগে, বৃষ্টির সময় - এই সময়গুলোতে বেশি বেশি তওবা করবো।
যে গুনাহ করেছি, তা থেকে ফিরে আসবো ইনশাআল্লাহ। আর কখনো সে গুনাহে ফিরে যাবো না - এই দৃঢ় সংকল্প করবো। যার হক নষ্ট করেছি, তাকে ফিরিয়ে দেবো বা মাফ চাইবো। যার সাথে সম্পর্ক খারাপ করেছি, তা ঠিক করবো।
ইমাম গাজ্জালী রহিমাহুল্লাহ বলেছেন, ❝তওবা হলো জান্নাতের চাবি। যে তওবা করল, সে যেন জান্নাতের দরজা খুলে ফেলল। আর যে তওবা করল না, সে নিজেকে জাহান্নামের দিকে ঠেলে দিল।❞
রমজান তওবার সবচেয়ে বড় সুযোগ। এই মাসে তওবা করলে কবুল হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। তাই দেরি করবো না। আজই তওবা করবো ইনশাআল্লাহ। এখনই।
সূরা যুমার,আয়াত ৫৩; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৭৫৯; ইবনে রজব, জামিউল উলুম ওয়াল হিকাম; সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৩০৭, সূরা ফুরকান, ইবনে তাইমিয়্যাহ, মাজমুউল ফাতাওয়া,ইমাম গাজ্জালী, ইহইয়াউ উলুমিদ্দীন
©️